Description
জৈব এবং রাসায়নিক উপাদানের এই মিশ্রণটিকে কৃষির ভাষায় Integrated Nutrient Management (INM) বা সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বলা হয়। শীতকালীন ফুল গাছ (যেমন: পিটুনিয়া, গাঁদা, ডালিয়া, প্যানজি) খুব অল্প সময়ে বাড়ে এবং প্রচুর ফুল দেয়। তাই সম্পূর্ণ জৈব সারের ধীরগতির প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কিছু দ্রুত কার্যকরী রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ জাদুর মতো কাজ করবে।
১. বেবি স্টেজ প্যাক (Root & Establishment Booster)
- চারা লাগানোর ৭-১০ দিন পর থেকে
চারা নতুন টবে বা মাটিতে লাগানোর পর যখন শেকড় বসে যাবে এবং নতুন পাতা আসা শুরু করবে, তখন এটি ব্যবহার করবেন।- মাত্রা: ৮-১০ ইঞ্চি টবের জন্য ১ চা-চামচ (৫-৭ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: প্রতি ১০ দিন অন্তর ২ বার।
লক্ষ্য: চারার দ্রুত শেকড় বৃদ্ধি, ফাঙ্গাস থেকে রক্ষা এবং মাটির সাথে মানিয়ে নেওয়া। এই ধাপে উচ্চমাত্রার ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
| উপাদান | পরিমাণ (গ্রাম) | কাজের বৈজ্ঞানিক কারণ |
|---|---|---|
| ভার্মি কম্পোস্ট | ৪০০ গ্রাম | কার্বন ও উপকারী অণুজীব সরবরাহ করে মাটির গঠন ঠিক রাখে। |
| হাড়ের গুঁড়ো (Bone Meal) | ২৫০ গ্রাম | দীর্ঘমেয়াদী ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। |
| সিঙ্গেল সুপার ফসফেট (SSP) | ১৫০ গ্রাম | দ্রুত কার্যকরী ফসফরাস, সালফার ও ক্যালসিয়াম যা শেকড় ছড়াতে সাহায্য করে। |
| সরিষার খৈল গুঁড়ো | ১০০ গ্রাম | চারার প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য সহনীয় মাত্রায় অর্গানিক নাইট্রোজেন। |
| নিম খৈল | ৫০ গ্রাম | মাটির ফাঙ্গাস ও নেমাটোড থেকে কচি শেকড়কে রক্ষা করে। |
| ট্রাইকোডার্মা বা হিউমিক এসিড | ৩০ গ্রাম | শেকড়ের জট খুলতে এবং মাটি থেকে পুষ্টি নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। |
| ইপসম সল্ট (Mg Sulphate) | ২০ গ্রাম | ক্লোরোফিল তৈরি করে, ফলে চারা হলুদ হয়ে যায় না। |
| মোট | ১০০০ গ্রাম |
২. গ্রোথ স্টেজ প্যাক (Vegetative Grow Booster)
গ্রোথ স্টেজ প্যাক প্রয়োগ
চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হলে
গাছ যখন দ্রুত বাড়তে শুরু করবে এবং আপনি ডগা ভেঙে দেবেন (Pinching/Topping – যেমন পিটুনিয়া বা গাঁদার ক্ষেত্রে করে বুশি করা হয়), তখন এই প্যাক দিতে হবে।
-
- মাত্রা: ৮-১০ ইঞ্চি টবের জন্য ১ থেকে দেড় টেবিল-চামচ (১৫-২০ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: কুঁড়ি আসার আগ পর্যন্ত প্রতি ১০-১২ দিন পরপর।
লক্ষ্য: গাছের দ্রুত শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি, পাতা বড় করা এবং কাঠামো মজবুত করা। এই ধাপে প্রচুর নাইট্রোজেন এবং পরিমিত পটাশিয়াম প্রয়োজন।
| উপাদান | পরিমাণ (গ্রাম) | কাজের বৈজ্ঞানিক কারণ |
|---|---|---|
| ভার্মি কম্পোস্ট | ৩৫০ গ্রাম | মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বেস উপাদান হিসেবে কাজ করে। |
| সরিষার খৈল গুঁড়ো | ২০০ গ্রাম | উচ্চমাত্রার জৈব নাইট্রোজেন যা পাতা বড় ও সবুজ করে। |
| DAP (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) | ১৫০ গ্রাম | তাৎক্ষণিক নাইট্রোজেন ও ফসফরাস দেয়, যা দ্রুত ডালপালা বাড়ায়। |
| হাড়ের গুঁড়ো | ১০০ গ্রাম | মজবুত কাণ্ড তৈরির জন্য ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম দেয়। |
| নিম খৈল | ১০০ গ্রাম | পোকা ও রোগবালাই দূরে রাখে। |
| SOP (সালফেট অব পটাশ) | ৫০ গ্রাম | গাছের কোষ মজবুত করে এবং আগাম কুঁড়ি ঝরে পড়া রোধ করে। |
| সিউইড এক্সট্রাক্ট (দানাদার) | ৫০ গ্রাম | সামুদ্রিক শৈবালের এই উপাদান প্রাকৃতিক গ্রোথ হরমোন (অক্সিন) হিসেবে কাজ করে। |
| মোট | ১০০০ গ্রাম |
৩. ফ্লাওয়ারিং স্টেজ প্যাক (Bloom & Color Booster)
ফ্লাওয়ারিং স্টেজ প্যাক প্রয়োগ
প্রথম কুঁড়ি দেখা দিলে
গাছে যখন সরিষা বা মটর দানার মতো ছোট ছোট কুঁড়ি আসা শুরু করবে, তখন গ্রোথ প্যাক সম্পূর্ণ বন্ধ করে এই প্যাকটি শুরু করবেন।
-
- মাত্রা: প্রতি টবে ১ টেবিল-চামচ (১৫ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ফুল থাকা অবস্থায় প্রতি ১২-১৫ দিন পরপর।
লক্ষ্য: বেশি সংখ্যক কুঁড়ি আনা, ফুলের আকার বড় করা, উজ্জ্বল রং এবং ফুল দীর্ঘস্থায়ী করা। নাইট্রোজেন একদম কমিয়ে পটাশিয়াম ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বাড়াতে হবে।
| উপাদান | পরিমাণ (গ্রাম) | কাজের বৈজ্ঞানিক কারণ |
|---|---|---|
| ভার্মি কম্পোস্ট | ৩০০ গ্রাম | মাটির গঠন ও অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখে। |
| SOP (সালফেট অব পটাশ) | ২০০ গ্রাম | ফুলের আকার, রং এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার। (পিটুনিয়ার জন্য MOP বা লাল পটাশের চেয়ে SOP বেশি নিরাপদ)। |
| কলার খোসার গুঁড়ো | ১৫০ গ্রাম | দ্রুত দ্রবণীয় জৈব পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস। |
| হাড়ের গুঁড়ো | ১৫০ গ্রাম | ফুল ফোটার সময় প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। |
| SSP (সিঙ্গেল সুপার ফসফেট) | ১০০ গ্রাম | ফুলকে টেকসই করতে এবং বীজের গঠন আটকাতে সাহায্য করে। |
| সিউইড এক্সট্রাক্ট | ৫০ গ্রাম | ট্রেস মিনারেলস সরবরাহ করে। |
| ইপসম সল্ট | ৩০ গ্রাম | সালোকসংশ্লেষণ ঠিক রেখে গাছকে সতেজ রাখে। |
| বোরন (Borax/Solubor 20%) | ১০ গ্রাম | ম্যাজিক উপাদান: বোরন ছাড়া কুঁড়ি ফুটতে পারে না এবং কুঁড়ি ঝরে পড়া রোধ করে। |
| জিংক সালফেট | ১০ গ্রাম | এনজাইম অ্যাক্টিভেশনে সাহায্য করে। |
| মোট | ১০০০ গ্রাম |
সার প্রয়োগের সময়সূচি ও নিয়ম
এই সারগুলো কখন এবং কীভাবে প্রয়োগ করবেন তা নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
- বেবি স্টেজ প্যাক প্রয়োগ
চারা লাগানোর ৭-১০ দিন পর থেকে
চারা নতুন টবে বা মাটিতে লাগানোর পর যখন শেকড় বসে যাবে এবং নতুন পাতা আসা শুরু করবে, তখন এটি ব্যবহার করবেন।- মাত্রা: ৮-১০ ইঞ্চি টবের জন্য ১ চা-চামচ (৫-৭ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: প্রতি ১০ দিন অন্তর ২ বার।
- গ্রোথ স্টেজ প্যাক প্রয়োগ
চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হলে
গাছ যখন দ্রুত বাড়তে শুরু করবে এবং আপনি ডগা ভেঙে দেবেন (Pinching/Topping – যেমন পিটুনিয়া বা গাঁদার ক্ষেত্রে করে বুশি করা হয়), তখন এই প্যাক দিতে হবে।- মাত্রা: ৮-১০ ইঞ্চি টবের জন্য ১ থেকে দেড় টেবিল-চামচ (১৫-২০ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: কুঁড়ি আসার আগ পর্যন্ত প্রতি ১০-১২ দিন পরপর।
- ফ্লাওয়ারিং স্টেজ প্যাক প্রয়োগ
প্রথম কুঁড়ি দেখা দিলে
গাছে যখন সরিষা বা মটর দানার মতো ছোট ছোট কুঁড়ি আসা শুরু করবে, তখন গ্রোথ প্যাক সম্পূর্ণ বন্ধ করে এই প্যাকটি শুরু করবেন।- মাত্রা: প্রতি টবে ১ টেবিল-চামচ (১৫ গ্রাম)।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ফুল থাকা অবস্থায় প্রতি ১২-১৫ দিন পরপর।
সতর্কতা:
- সার সবসময় গাছের মূল কাণ্ড (stem) থেকে অন্তত ১-২ ইঞ্চি দূরে টবের কিনারা ঘেঁষে দেবেন।
- সার দেওয়ার পর মাটি হালকা নিড়ানি দিয়ে মিশিয়ে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি দিয়ে দেবেন, এতে রাসায়নিক উপাদানগুলো দ্রুত দ্রবীভূত হয়ে গাছের শেকড়ে পৌঁছাতে পারবে।
Reviews
There are no reviews yet.